কেন, কোথায়, কিভাবে জিডি করবেন?

অমুবাচা, ডেস্ক : জিডি হল সাধারণ ডায়েরি। মূল্যবান যে কোন জিনিস হারালে যেমন- সার্টিফিকেট, দলিল, লাইসেন্স, পাসপোর্ট, মূল্যবান রশিদ, চেকবই, এটিএম বা ক্রেডিট স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ ইত্যাদি। অথবা কোন প্রকার হুমকি পেলে বা হুমকির আশংকা থাকলে কিংবা কেউ নিখোঁজ হলেও জিডি করার সুযোগ রয়েছে। অর্থাৎ সাধারণত যেসব ক্ষেত্রে মামলা হয়না সেসব ক্ষেত্রেই থানায় জিডি করা যায়। জিডি করার কোন বাধ্যবাধকতা না থাকলেও নতুন করে হারানো কাগজ তুলতে হলেও জিডির কপির প্রয়োজন হয়।

জিডি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন :
ইংরেজি শব্দ General Diary এর সংক্ষিপ্ত রুপ হচ্ছে GD (জিডি)। যে পদ্ধতিতে আপনি আপনার বা আপনার সম্পদের বা আপনার আপনজনের সম্ভাব্য কোন ক্ষতি থানা কর্তৃপক্ষকে অগ্রিমভাবে জানিয়ে রাখতে পারেন তার নাম জিডি।

জিডি কেন করবেন?
সাধারনত যেসব ক্ষেত্রে মামলা হয়না সেসব ক্ষেত্রে জিডি করা যায়। যেমন,

১। কারো দ্বারা ভিতিপ্রাপ্ত হয়ে নিরাপত্তার অভাব বোধ করলে।

২। আপনার বা আপনার সম্পদের অথবা আপনার পরিবারের কোন সদস্য এর বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কা থাকলে।

৩। আপনার কোন প্রয়োজনীয় কাগজ যেমন ধরুন পরিচয়পত্র, সার্টিফিকেট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, মূল্যবান রশিদ, চেকবই, এটিএম বা ক্রেডিট কার্ড, দলিল, নগদ অর্থ ইত্যাদি সহ যেকোন মূল্যবান কাগজপত্র হারিয়ে গেলে।

৪। আপনার প্রাণনাশের হুমকি আছে এমন কিছু আশঙ্কা থাকলে।

৫। আপনার কোন আপনজন হারিয়ে গেলে অথবা নিখোঁজ হলে।

জিডি কখন কাজে লাগে?
সন্দেহভাজন কোন ঘটনা ঘটার আশঙ্কায় বা হারানো কিছুর জন্য জিডি করা হলে ওই ঘটনা ঘটার পর দোষী ব্যক্তি শনাক্তকরণে বা হারানো জিনিস খুজে পেতে জিডির প্রয়োজন হয়।

কোথায় জিডি করবেন?
জিডি করার ক্ষেত্রে সাধারণত ঘটনাস্থলকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়। এর অর্থ হচ্ছে, যে এলাকায় ঘটনা ঘটেছে বা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে সেই এলাকার থানাতেই জিডি করা উচিত। ধরুন আপনার বাড়ি যশোর কিন্তু আপনি থাকেন ঢাকার মোহাম্মদপুরে। আপনার কোন জিনিস যদি মোহাম্মদপুরে হারিয়ে যায় তাহলে আপনাকে মোহাম্মদপুর থানাতেই জিডি করতে হবে; যদিও আপনি সেই সময় যশোরে অবস্থান করছেন।

কোথায় গিয়ে জিডি করবেন?
আপনাকে থানায় গিয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর একটি আবেদনপত্র দিতে হবে। একটি জিডির আবেদনপত্রে সাধারনত আপনার নাম, পিতার নাম, ঠিকানা, জিডি করার কারণ ইত্যাদি প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হয়।

নিচে একটি জাতীয় পরিচয়পত্র হারানো জিডির আবেদনপত্রের একটি নমুনা দেওয়া হলঃ

বরাবর
অফিসার ইনচার্জ
……………… থানা,
………………… জেলা।

বিষয়ঃ সাধারন ডায়েরি করার আবেদন।

জনাব,
যথাবিহীত সম্মান প্রদর্শন পূর্বক বিনীত নিবেদন এই যে, আমি নামঃ ………………………, বয়সঃ ………, পিতা/স্বামীঃ ……………………………………., ঠিকানাঃ …………………………………………. এই মর্মে থানায় হাজির হইয়া সাধারণ ডায়েরী করার আবেদন করিতেছি যে, আজ/গত ……………… ইং তারিখ সকাল অনুমান ……………. ঘটিকার সময় ………………….. হইতে ………………….. যাওয়ার সময় পথিমধ্যে আমার জাতীয় পরিচয় পত্র হারিয়ে যায়। উক্ত জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম্বার ………………………………………. । উক্ত জাতীয় পরিচয়পত্রটি সম্ভাব্য সকল জায়গায় খোজাখুজি করিয়া কোথাও পাওয়া যায় নাই।

অতএব, বিষয়টি আপনার থানায় ভবিষ্যতের জন্য সাধারণ ডায়েরীভুক্ত করিতে মর্জি হয়।

বিনীত নিবেদক,
…………………(আবেদনকারীর সাক্ষর)
তারিখঃ…………………                                                                                                                      পূর্ণ নামঃ………………………………
ঠিকানাঃ ………………………………
ফোন নম্বরঃ …………………………..

জেনে রাখুনঃ
১। জিডি করতে হলে আপনাকে একই আবেদনপত্রের দুটি কপি করতে হবে। প্রথম কপিটি থানায় নথিভুক্ত হবে এবং দ্বিতীয় কপিটি জিডি নম্বর, তারিখ, অফিসারের সাক্ষর ও সিলসহ আপনাকে দেওয়া হবে। উক্ত কপি আপনার নিজের কাছে সংরক্ষণ করতে হবে।

২। জনাব ক জনাব খ এর বিরুদ্ধে জিডি করবেন। জনাব ক জনাব খ এর শুধু নাম ছাড়া আর কিছুই জানেন না। এক্ষেত্রে জনাব ক এর জিডি গ্রহণযোগ্য হবেনা।

৩। যদি জনাব ক জনাব খ গ ও ঘ এর বিরুদ্ধে জিডি করতে চান; আর যদি তিনি জনাব ক ছাড়া আর সবার তথ্য সরবরাহ করতে অসমর্থ হন, সেক্ষেত্রে তার উচিত হবে ক ও তার সহযোগী এভাবে জিডি করা।

৪। জিডি হওয়ার পর থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তা জিডিটি থানার ওসির কাছে পাঠাবেন। জিডিটি যদি আমলযোগ্য আপরাধ সংঘটনের মত বিষয় হয়, তবে থানা কর্তৃপক্ষ সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি আমলে নিয়ে অপরাধটি প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিবে এবং গৃহীত ব্যবস্থা পুনরায় আবেদনকারীকে অবহিত করা হবে।