নুসরাতের হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি মাইনুল ইসলাম পলাশের

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন হয়রানী ও পুড়িয়ে হত্যা মামলায় আসামিদের সরকারকে উদ্যোগ নিয়ে, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কোন শিক্ষক দ্বারা যৌন নির্যাতন না হয়, এমনটাই দাবী করেন ‘ক্রাইম প্রতিদিন’ পত্রিকার সম্পাদক ও ‘অপরাধ মুক্ত বাংলাদেশ চাই’ আন্দোলনের চেয়ারম্যান এ জেড এম মাইনুল ইসলাম পলাশ।

শনিবার মিডিয়ায় পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন হয়রানী ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় গোটা জাতিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। সারা দেশে বইছে নিন্দার ঝড়। সোশ্যাল মিডিয়ায় উঠেছে সমালোচনার ঢেউ। পাশাপাশি এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে আর না ঘটে, সে জন্য বাংলাদেশের সকল মানুষকে প্রতিবাদী হতে হবে। প্রত্যেকেরই এর প্রতিবাদ করা উচিত।

তিনি বলেন, অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ষক শুধু একজন ব্যক্তি, তিনি কোন আলেম সমাজ বা রাজনীতি পরিবারের মানুষ হতে পারে না। কোন ধর্ষকের স্থান ৩০ লাখ শহীদের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশে হতে পারে না।

তিনি আরো বলেন, মৃত্যু হওয়ার পরে প্রতিবাদ নয়, নির্যাতনের সঙ্গে সঙ্গে সবাইকে প্রতিবাদ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের এ বিষয়ে আরো সর্তক হতে হবে। প্রশাসনের কাছে আমার অনুরোধ প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একটি লিস্ট তৈরি করেন। সেই সঙ্গে ওই সব প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের অভিমত গ্রহণ করুন, যাতে আর কোন শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানী বা পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় মৃত্যুবরণ করতে না হয়।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মার্চ নুসরাত জাহান রাফিকে নিজ কক্ষে নিয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে আটক করে পুলিশ। ওই ঘটনার পর থেকে তিনি কারাগারে। এ ঘটনায় রাফির মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। গত ৬ এপ্রিল (শনিবার) সকালে রাফি আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় যান। এ সময় মাদরাসার এক ছাত্রী তার বান্ধবী নিশাতকে ছাদের ওপর কেউ মারধর করছে- এমন সংবাদ দিলে তিনি ওই বিল্ডিংয়ের চার তলায় যান। সেখানে মুখোশ পরা ৪-৫ জন তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। রাফি অস্বীকৃতি জানালে তারা তার গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের ১০২ নম্বর কক্ষে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। তাকে লাইফ সাপোর্ট দেয়া হয়। এরপর না ফেরার দেশে চলে যান মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি।

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 93
    Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*